ঋতুভিত্তিক যত্ন

ঋতুভিত্তিক যত্ন নিয়ে ধাপে ধাপে গাইড। শীত, গরম আর বর্ষায় ত্বক আর চুলের যত্নে কী বদলাতে হবে, তা সহজ বাংলায়।

শীতে হাতের যত্নে হাতে ক্রিম লাগানো
ঋতুভিত্তিক যত্ন

শীতে হাতের যত্ন: হাত ফাটা ও শুষ্কতা কমানোর সহজ নিয়ম

শীতে হাতের যত্নের সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো হাত ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো আর ঠান্ডা বাতাস থেকে হাত ঢেকে রাখা। এই দুটি অভ্যাস ঠিক থাকলে শীতে হাত ফাটা আর শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। শীতে হাত কেন শুকিয়ে যায় শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, তাই হাতের ত্বকও দ্রুত শুকিয়ে যায়। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, খুব গরম পানি ব্যবহার করা আর ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে আসা এই শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দেয়। আঙুলের গিঁট আর নখের চারপাশের ত্বক সবার আগে শুকায়, কারণ এই জায়গাগুলোতে ত্বক পাতলা আর বারবার নড়াচড়া হয়। ঠান্ডা বাতাসে খালি হাতে বাইরে গেলে হাত আরও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই শীতে হাতের যত্ন মানে আসলে দুটি কাজ: হাতের আর্দ্রতা ধরে রাখা আর ঠান্ডা ও কড়া জিনিস থেকে হাত বাঁচানো। শীতে হাতের যত্নের সহজ নিয়ম হাত ধোয়ার সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি হাতের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে হাত আলতো করে মুছে নিন, জোরে ঘষে মুছবেন না। হাত ধোয়ার পরপরই, হাত সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগান। ভেজা ভাব থাকতে লাগালে আর্দ্রতা হাতে আটকে থাকে আর ক্রিম ভালোভাবে বসে। দিনে একবার লাগিয়ে থেমে যাবেন না। প্রতিবার হাত ধোয়ার পর, বাইরে যাওয়ার আগে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে ক্রিম লাগান। শীতে হাত বারবার ধুতে হয়, তাই ক্রিমও বারবার লাগাতে হয়। রাতে ঘুমানোর আগে একটু ঘন ক্রিম লাগান। হাত খুব শুষ্ক হলে ক্রিম লাগিয়ে সুতির গ্লাভস পরে ঘুমাতে পারেন, এতে সারা রাত আর্দ্রতা ধরে থাকে। বাইরে গেলে গ্লাভস পরুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি হাতে না লাগে। বাসন ধোয়া বা ঘর পরিষ্কারের সময় রাবার গ্লাভস পরুন, যাতে ডিটারজেন্ট হাতে না লাগে। নখ আর নখের চারপাশের যত্ন নিন। ক্রিম লাগানোর সময় নখের গোড়াতেও লাগান। নখের চারপাশের শুকনো চামড়া টেনে তুলবেন না, এতে জায়গাটা আরও ফেটে যেতে পারে। হাতের জন্য আলাদা কড়া কিছু ব্যবহার করবেন না। মুখের কড়া স্ক্রাব বা শক্ত ক্লিনজার হাতে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। শীতে হাতের ত্বক এমনিতেই সংবেদনশীল থাকে। শীতে হাতের যত্নে যেসব প্রোডাক্ট কাজে লাগতে পারে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিতে প্রোডাক্ট পেজে দেখুন। প্রোডাক্ট ব্যবহার বিধি অর্ডার করুন হাতের ময়েশ্চারাইজারের জন্য ক্রিম MOOYAM Moisturizing Cream 250g – Deep Hydration & Barrier Care হাত ধোয়ার পর অল্প করে হাতে লাগান অর্ডার করুন শুষ্ক ও সংবেদনশীল হাতের ক্রিম Physiogel Daily Moisture Therapy Cream 75g Barrier Care হাত খুব শুষ্ক লাগলে অল্প করে লাগান, দিনে কয়েকবার ব্যবহার করা যায় অর্ডার করুন হাত ও শরীরের লোশন Kormesic Glowing Hydrating Body Lotion for Soft Skin গোসলের পর বা হাত ধোয়ার পর হাতে লাগান অর্ডার করুন নখের যত্নের প্রোডাক্ট Hyaluronic Acid Nail Hardener for Strong Healthy Nails নখের ওপর নির্দেশনা অনুযায়ী লাগান অর্ডার করুন শীতের আরও যত্নের লেখা পড়তে চাইলে ঋতুভিত্তিক যত্ন ক্যাটাগরি দেখুন। হাতের পাশাপাশি পুরো ত্বকের যত্ন জানতে শীতে ত্বকের যত্ন আর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম লেখা দুটি পড়তে পারেন। শীতে হাতের যত্নে যেসব ভুল হয় হাত ধুয়ে ক্রিম না লাগানো। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল, কারণ ধোয়ার পর হাত সবচেয়ে বেশি শুকায়। খুব গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া। গরম পানি আরাম দিলেও হাতের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফাটা চামড়া টেনে তোলা। এতে ফাটা জায়গা বড় হয় আর ব্যথা বাড়ে। শুধু সকালে একবার ক্রিম লাগিয়ে সারা দিন পার করা। শীতে হাত বারবার ধোয়া হয়, তাই ক্রিমও বারবার লাগাতে হয়। ডিটারজেন্টের কাজ খালি হাতে করা। ডিটারজেন্ট হাতের ত্বককে খুব দ্রুত শুষ্ক করে দেয়। সারসংক্ষেপ শীতে হাত ভালো রাখতে বড় কোনো আয়োজনের দরকার নেই। কুসুম গরম পানিতে হাত ধোয়া, ধোয়ার পরপরই ক্রিম লাগানো, বাইরে আর ঘরের কাজে গ্লাভস পরা আর রাতে ঘন ক্রিম লাগানো, এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলেই হাত নরম থাকে আর ফাটা কমে। হাত খুব শুষ্ক লাগলে ক্রিমের পরিমাণ আর লাগানোর সংখ্যা বাড়িয়ে দিন, কিন্তু কড়া কিছু ব্যবহার করবেন না। সাধারণ প্রশ্ন প্রশ্ন: হাতে ক্রিম দিনে কতবার লাগাবেন?উত্তর: প্রতিবার হাত ধোয়ার পর আর ঘুমানোর আগে লাগান। শীতে সাধারণত দিনে কয়েকবার লাগাতে হয়। প্রশ্ন: হাত ফেটে গেলে কী করবেন?উত্তর: ঘন ক্রিম নিয়মিত লাগান, ফাটা চামড়া টেনে তুলবেন না আর ডিটারজেন্ট থেকে হাত বাঁচান। ফাটা জায়গায় ব্যথা, রক্ত বা অনেক দিন ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রশ্ন: শীতে হাতের জন্য লোশন না ক্রিম ভালো?উত্তর: হাত খুব শুষ্ক হলে ক্রিম সাধারণত ভালো কাজ করে, কারণ ক্রিম ঘন আর আর্দ্রতা বেশিক্ষণ ধরে রাখে। হাত কম শুষ্ক হলে লোশনও চলতে পারে।

শীতে পায়ের যত্নে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাচ্ছেন একজন নারী
ঋতুভিত্তিক যত্ন

শীতে পায়ের যত্ন: গোড়ালি ফাটা থেকে বাঁচার সহজ রুটিন

শীতে পায়ের যত্ন হলো প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখা, ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো, আর রাতে ঘন ক্রিম লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমানো। শীতের শুষ্ক বাতাসে পায়ের ত্বক থেকে আর্দ্রতা তাড়াতাড়ি চলে যায়, তাই গোড়ালি শক্ত হয়ে ফাটতে শুরু করে। শীতে মুখ আর হাতের যত্ন আমরা সবাই নিই, কিন্তু পায়ের কথা অনেক সময় ভুলে যাই। অথচ গোড়ালি সারাদিন শরীরের ওজন বহন করে, জুতার সাথে ঘষা লাগে, আর ধুলোবালি লাগে। তার ওপর শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তাই গোড়ালির চামড়া শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, তারপর ফাটল ধরে। ফাটল ছোট থাকতেই যত্ন নিলে পা নরম থাকে, আর ফাটল বড় হলে ব্যথা করতে পারে, রক্ত বের হতে পারে। এই লেখায় শীতে পায়ের সহজ রুটিন ধাপে ধাপে দেওয়া আছে, যাতে গোড়ালি ফাটা শুরুতেই আটকানো যায়। যা লাগবে আপনার যা লাগবে তা হলো একটি মৃদু ক্লিনজার বা সাবান, পরিষ্কার নরম তোয়ালে, একটি পিউমিস স্টোন বা ঝামা পাথর, একটি ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, কয়েক জোড়া পরিষ্কার সুতির মোজা, আর এক জোড়া আরামদায়ক ঢাকা জুতা। নতুন কোনো ক্রিম প্রথমবার লাগানোর আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন, বিশেষ করে আপনার ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে। ধাপে ধাপে শীতে পায়ের যত্ন ১. প্রতিদিন পা একবার দেখে নিন। গোড়ালিতে শুকনো ভাব, ছোট ফাটল, লালচে ভাব বা ক্ষত আছে কি না, তা দেখুন। আঙুলের ফাঁকেও দেখুন। ছোট সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়লে যত্ন নেওয়া সহজ হয়। ২. কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। খুব গরম পানি দিয়ে বেশিক্ষণ পা ভেজাবেন না, এতে ত্বক আরো শুকিয়ে যায়। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে আলতো করে ধুয়ে নিন, তারপর নরম তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে নিন, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকগুলো। আঙুলের ফাঁকে পানি জমে থাকলে ছত্রাকের সমস্যা হতে পারে। ৩. ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান। পা পুরো শুকিয়ে যাওয়ার আগেই, হালকা ভেজা ভাব থাকতে থাকতেই ক্রিম লাগালে আর্দ্রতা ভালোভাবে আটকে থাকে। গোড়ালি আর পায়ের পাতায় ভালো করে লাগান, পায়ের ওপরের দিকেও লাগান। তবে আঙুলের ফাঁকে ক্রিম লাগাবেন না। শীতে ত্বকের যত্নের পুরো রুটিন জানতে চাইলে শীতে ত্বকের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন। ৪. সপ্তাহে একবার বা দুইবার পা ভিজিয়ে আলতো করে ঘষে নিন। কুসুম গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন, যাতে শক্ত চামড়া নরম হয়। তারপর পিউমিস স্টোন দিয়ে গোড়ালির শক্ত অংশ আলতো করে ঘষে নিন। জোরে ঘষবেন না, আর একদিনে অনেক চামড়া তোলার চেষ্টা করবেন না, এতে চামড়া কেটে যেতে পারে। ঘষার পর আবার ময়েশ্চারাইজার লাগান। ৫. রাতে ঘুমানোর আগে ঘন করে ক্রিম লাগিয়ে সুতির মোজা পরে নিন। রাতে ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার সুতির মোজা পরে ঘুমালে সারারাত আর্দ্রতা ধরে থাকে, আর ধুলোবালিও লাগে না। মোজা যেন খুব টাইট না হয়, আর প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরুন। ভেজা মোজা পরে থাকবেন না। ৬. দিনের বেলা ঢাকা আরামদায়ক জুতা পরুন। পেছন খোলা স্যান্ডেল পরলে গোড়ালি খোলা থাকে, ধুলোবালি লাগে আর ঘষা লাগে, তাই শীতে এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। জুতা যেন পায়ের মাপের সাথে মেলে, খুব টাইট বা খুব ঢিলা না হয়। বাড়িতেও খালি পায়ে হাঁটবেন না, স্লিপারের সাথে পরিষ্কার মোজা পরুন। ৭. নখ সোজা করে কাটুন। নখ খুব ছোট করে কাটবেন না, আর কোণা খুঁচিয়ে তুলবেন না, এতে নখ ভেতরের দিকে ঢুকে ব্যথা করতে পারে। নখ কাটার পর হাত ধুয়ে নিন, আর নখের চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। ৮. পানি খান আর লক্ষণ দেখুন। শরীরে পানি কম থাকলেও ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে, তাই দিনের বেলা নিয়মিত পানি খান। গোড়ালির ফাটল গভীর হলে, রক্ত বা পুঁজ বের হলে, অনেক ব্যথা করলে, বা লালচে ভাব ছড়িয়ে গেলে নিজে চিকিৎসা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ক্ষত আর গরম পানির তাপ নিয়ে আরো সতর্ক থাকুন, কারণ পায়ের অনুভূতি কম থাকলে ক্ষত বুঝতে দেরি হতে পারে। শীতে পায়ের যত্নের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিন, কারণ দাম আর স্টক সময়ের সাথে বদলাতে পারে। প্রোডাক্ট ব্যবহার বিধি অর্ডার করুন পায়ের শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম The Face Shop Rice & Ceramide Moisturizing Cream (50ml) পা ধুয়ে ভালো করে মুছে নেওয়ার পর গোড়ালি আর পায়ের পাতায় লাগান। আঙুলের ফাঁকে লাগাবেন না। রাতে ঘন করে লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। প্রথমে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। অর্ডার করুন Artken 42% Urea Cream 50g + 2% Salicylic Acid 50g – Cracked Heel Repair পা ধুয়ে মুছে নেওয়ার পর ফাটা গোড়ালিতে আলতো করে লাগান। রাতে লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। অর্ডার করুন LAMSISI 60% Urea Foot Cream 150g – Cracked Heel & Callus Care কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে মুছে নেওয়ার পর গোড়ালি আর শক্ত চামড়ায় লাগান। রাতে লাগিয়ে সুতির মোজা পরুন। অর্ডার করুন OUKEYA 40% Urea Cream Stick 30g – Cracked Heel & Callus Balm পা ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়ার পর স্টিকটি সরাসরি ফাটা গোড়ালিতে লাগান। দিনে একবার বা দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। অর্ডার করুন শরীরের ত্বকের আরো অপশন দেখতে Well Care Shop এর বডি কেয়ার ক্যাটাগরি দেখতে পারেন। সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন সবচেয়ে বড় ভুল হলো খুব গরম পানিতে অনেকক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখা, এতে ত্বক আরো শুকিয়ে যায়। পিউমিস স্টোন দিয়ে জোরে ঘষা আর একদিনে অনেক চামড়া তুলে ফেলাও ভুল, এতে চামড়া কেটে সংক্রমণ হতে পারে। আঙুলের ফাঁকে ক্রিম লাগানো ঠিক নয়, কারণ সেখানে আর্দ্রতা জমে ছত্রাকের সমস্যা হতে পারে। ফাটা চামড়া টেনে তোলা, খালি পায়ে হাঁটা, আর শীতে পেছন খোলা স্যান্ডেল পরা গোড়ালির ক্ষতি করে। গভীর ফাটলে নিজে থেকে শক্ত উপাদানের ক্রিম লাগানোও ঠিক নয়, আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শীতে ঠোঁটও একইভাবে শুকিয়ে ফাটে, তার যত্ন জানতে চাইলে শীতে ঠোঁটের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন। সারসংক্ষেপ শীতে পায়ের যত্ন সহজ: প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নিন, ধোয়ার পরপরই গোড়ালি আর পায়ের পাতায় ময়েশ্চারাইজার লাগান, সপ্তাহে একবার বা দুইবার আলতো করে ঘষে নিন, আর রাতে ঘন ক্রিম লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমান। আঙুলের ফাঁকে ক্রিম লাগাবেন না, খালি পায়ে হাঁটবেন না, আর পেছন খোলা স্যান্ডেল এড়িয়ে চলুন। ফাটল গভীর হলে, রক্ত বা পুঁজ বের হলে, বা ব্যথা ছড়িয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এই লেখায় কোনো স্থায়ী দামের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, আর কোনো প্রোডাক্ট গোড়ালির ফাটল পুরো সারিয়ে দেবে বা ত্বকের রং স্থায়ীভাবে বদলে দেবে, এমন দাবি করা হয়নি। সচরাচর জিজ্ঞাসা প্রশ্ন: গোড়ালি ফাটলে কি শুধু ক্রিম লাগালেই হবে?উত্তর: ছোট ফাটলে নিয়মিত যত্ন, অর্থাৎ ধোয়া, ময়েশ্চারাইজার আর রাতে মোজা পরা, অনেক কাজ করে। তবে ফাটল গভীর হলে, রক্ত বের হলে বা ব্যথা থাকলে শুধু ক্রিমের ওপর ভরসা না করে ডাক্তার দেখান। প্রশ্ন: রাতে মোজা পরে ঘুমানো

শীতে ঠোঁটের যত্নে লিপ বাম লাগাচ্ছেন একজন নারী
ঋতুভিত্তিক যত্ন

শীতে ঠোঁটের যত্ন: ঠোঁট ফাটা কমানোর সহজ গাইড

শীতে ঠোঁটের যত্ন হলো শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখা। ঠোঁটে নিয়মিত লিপ বাম লাগান, ঠোঁট চাটবেন না আর রাতে ঘুমানোর আগে বাম লাগিয়ে নিন, এই তিনটি অভ্যাসই শীতে ঠোঁট ভালো রাখার মূল কাজ। ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্য ত্বকের চেয়ে পাতলা, আর এতে তেল বানানোর গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই শীতে বাতাস শুষ্ক হলেই ঠোঁট সহজে পানি হারায়, টানটান লাগে আর ফেটে যায়। ঠোঁট ফাটলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নেন, কিন্তু লালা শুকিয়ে গেলে ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়। এই লেখায় সকালে আর রাতে কী করবেন, কখন আবার বাম লাগাবেন আর কোন ভুলগুলো এড়াবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া আছে। যা লাগবে আপনার যা লাগবে তা হলো একটি লিপ বাম, দিনের বেলা বাইরে বেরোলে SPF যুক্ত লিপ বাম হলে ভালো হয়, একটি নরম তোয়ালে আর পরিষ্কার পানি। স্ক্রাব করতে চাইলে অল্প মধু আর চিনি লাগবে, তবে এটা বাধ্যতামূলক নয়। নতুন লিপ বাম শুরু করলে প্রথমে হাতের ভেতরে বা চোয়ালের পাশে অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন। ধাপে ধাপে শীতে ঠোঁটের যত্ন ১. ঠোঁট পরিষ্কার করে নিন। মুখ ধোয়ার সময় ঠোঁটও আলতো করে ধুয়ে নিন। ঠোঁটে লিপস্টিক থাকলে আগে তুলে নিন। ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে পানি মুছে নিন, ঘষে মুছবেন না। ২. সকালে ঠোঁটে লিপ বাম লাগান। উপরের ঠোঁট আর নিচের ঠোঁটে সমান করে লাগান, ঠোঁটের দুই কোণেও পৌঁছেছে কি না দেখে নিন। ঠোঁট শুকনো করে তারপর বাম লাগালে ভালো লাগে। সকালের রুটিনে বাম কোথায় বসে তা জানতে চাইলে সকালের স্কিনকেয়ার রুটিন লেখাটি পড়তে পারেন। ৩. দিনে দরকার মতো আবার লাগান। খাওয়ার পর, পানি খাওয়ার পর আর বাইরে বেরোনোর আগে আবার লাগান। ঠোঁট শুষ্ক মনে হলেই অল্প করে লাগিয়ে নিন, শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। SPF যুক্ত বাম ব্যবহার করলে দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে লাগান, কারণ শীতেও রোদ ঠোঁটে লাগে। ৪. ঠান্ডা বাতাস থেকে ঠোঁট বাঁচান। বাইরে বেরোলে স্কার্ফ বা মাস্ক দিয়ে ঠোঁট ঢেকে রাখতে পারেন, যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি ঠোঁটে না লাগে। বাতাসে অনেকক্ষণ থাকলে ঘরে ফিরে আবার বাম লাগান। ৫. সপ্তাহে একবার আলতো স্ক্রাব করুন, যদি ঠোঁটে শুকনো চামড়া জমে থাকে। সমান পরিমাণ মধু আর চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে এক মিনিট আলতো করে মালিশ করুন, তারপর ধুয়ে সাথে সাথে লিপ বাম লাগান। জোরে ঘষবেন না। ঠোঁট ফাটা, রক্ত বেরোনো বা জ্বালা থাকলে স্ক্রাব করবেন না, তখন শুধু বাম লাগান। ৬. রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে বাম লাগান। রাতে ঠোঁট বিশ্রাম পায়, তাই ঘুমানোর আগে বাম লাগালে ঠোঁট সারারাত আর্দ্র থাকে। সকালে উঠে ঠোঁট টানটান লাগলে আবার বাম লাগিয়ে দিন শুরু করুন। ৭. ঠোঁট চাটা আর শুকনো চামড়া টানা বন্ধ করুন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে জিভ দিয়ে ভেজাবেন না, এতে কিছুক্ষণ ভেজা লাগলেও পরে ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়। শুকনো চামড়া টেনে তুলবেন না, এতে ফাটা বড় হতে পারে আর রক্ত বেরোতে পারে। পানি নিয়মিত খান, কারণ শীতে তেষ্টা কম পেলেও শরীরের স্বাভাবিক কাজের জন্য পানি দরকার। শীতে ঠোঁটের যত্নের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিন, কারণ দাম আর স্টক সময়ের সাথে বদলাতে পারে। প্রোডাক্ট ব্যবহার বিধি অর্ডার করুন শীতে ঠোঁটের আর্দ্রতার জন্য লিপ বাম WishCare Ceramide Lip Balm SPF 50 PA++++ 5g ঠোঁট পরিষ্কার আর শুকনো করে নিন, উপরে আর নিচে সমান করে লাগান। খাওয়ার পর, পানি খাওয়ার পর বা রোদে বেরোনোর আগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর আবার লাগান। প্রথমে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। অর্ডার করুন রঙের হালকা ছোঁয়া চাইলে টিনটেড লিপ বাম WishCare Ceramide Tinted Lip Balm SPF 50 5g ঠোঁট পরিষ্কার আর শুকনো করে সমান করে লাগান। রঙ আরো গাঢ় চাইলে আরো একবার লাগান। দিনে দরকার মতো আবার লাগান, বিশেষ করে রোদে বেরোনোর আগে আর খাওয়ার পর। অর্ডার করুন লিপ কেয়ার প্রোডাক্ট আরো দেখতে চাইলে লিপ, আই অ্যান্ড নেইল কেয়ার ক্যাটাগরি দেখতে পারেন। সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন সবচেয়ে বড় ভুল হলো ঠোঁট বারবার চাটা। এতে ঠোঁট কিছুক্ষণ ভেজা লাগে, তারপর আরো শুষ্ক হয়ে যায়। শুকনো চামড়া টেনে তোলা, নখ দিয়ে খোঁচানো আর ফাটা ঠোঁটে জোরে স্ক্রাব ঘষাও ভুল। আরেকটি ভুল হলো সকালে একবার বাম লাগিয়ে সারাদিন আর না লাগানো, খাওয়ার পর আর পানি খাওয়ার পর বাম সরে যায়, তাই আবার লাগানো দরকার। সুগন্ধি বা মেনথলযুক্ত বামে জ্বালা করলে সেটা চালিয়ে যাবেন না। শুধু ঠোঁটের মাঝখানে বাম লাগিয়ে কোণ বাদ দেওয়াও ভুল, কারণ কোণেই ফাটল বেশি হয়। শীতের পুরো যত্ন জানতে চাইলে শীতে ত্বকের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন। সারসংক্ষেপ শীতে ঠোঁটের যত্ন সহজ: সকালে ঠোঁট পরিষ্কার করে লিপ বাম লাগান, দিনে খাওয়ার পর আর বাইরে বেরোনোর আগে আবার লাগান, সপ্তাহে একবার আলতো স্ক্রাব করুন আর রাতে ঘুমানোর আগে বাম লাগিয়ে নিন। ঠোঁট চাটবেন না আর শুকনো চামড়া টানবেন না। ঠোঁটে রক্ত বেরোলে, ফাটা অনেকদিন না কমলে, ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল হলে বা ফোলা আর ব্যথা বাড়লে নিজে নতুন প্রোডাক্ট পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এই লেখায় কোনো স্থায়ী দামের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, আর কোনো লিপ বাম ঠোঁটের কোনো রোগ সারিয়ে দেবে বা ঠোঁটের রং স্থায়ীভাবে বদলে দেবে, এমন দাবি করা হয়নি। সচরাচর জিজ্ঞাসা প্রশ্ন: শীতে লিপ বাম দিনে কতবার লাগাব? উত্তর: ঠোঁট শুষ্ক মনে হলেই লাগান, আর খাওয়ার পর, পানি খাওয়ার পর আর বাইরে বেরোনোর আগে আবার লাগান। রাতে ঘুমানোর আগে একবার লাগাতে ভুলবেন না। প্রশ্ন: ঠোঁট চাটলে কেন আরো শুকায়? উত্তর: লালা শুকিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁটের আর্দ্রতাও সাথে নিয়ে যায়, তাই ঠোঁট কিছুক্ষণ ভেজা লাগলেও পরে আরো শুষ্ক হয়। প্রশ্ন: ঠোঁটের স্ক্রাব কতবার করব? উত্তর: সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট, আর খুব আলতো করে করুন। ঠোঁট ফাটা বা রক্ত বেরোলে স্ক্রাব করবেন না। প্রশ্ন: ফাটা ঠোঁটে কি লিপস্টিক লাগানো যাবে? উত্তর: ফাটা বেশি থাকলে আগে ঠোঁট ঠিক হতে দিন। হালকা শুষ্কতা থাকলে লিপস্টিকের আগে লিপ বাম লাগিয়ে নিন, যাতে ঠোঁটে সরাসরি ঘষা কম লাগে। প্রশ্ন: ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটলে কী করব? উত্তর: ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন আর বাম নিয়মিত লাগান। ফাটল বারবার ফিরে আসলে, রক্ত বেরোলে বা ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে নতুন প্রোডাক্ট পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন না।

Shopping Cart

Subscribe to Newsletter

About Us

Your trusted destination for 100% authentic skincare and beauty products in Bangladesh. We deliver premium, safe, and effective beauty essentials directly to your doorstep.

Recent news

  • All Post
  • উপাদান গাইড
  • ঋতুভিত্তিক যত্ন
  • চুলের যত্ন
  • নাইট কেয়ার ও নিরাপদ হোয়াইটেনিং
  • পুরুষের ত্বক ও চুলের যত্ন
  • বিউটি টিপস
  • ব্রণ ও দাগের যত্ন
  • মা ও শিশুর যত্ন
  • সংবেদনশীল ত্বকের যত্ন
  • সানস্ক্রিন ও রোদ সুরক্ষা
    •   Back
    • ত্বকের যত্ন

Copyright © 2026 Well Care Shop | Design by Raozan IT

Scroll to Top