শীতে হাতের যত্নের সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো হাত ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগানো আর ঠান্ডা বাতাস থেকে হাত ঢেকে রাখা। এই দুটি অভ্যাস ঠিক থাকলে শীতে হাত ফাটা আর শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়।
শীতে হাত কেন শুকিয়ে যায়
শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, তাই হাতের ত্বকও দ্রুত শুকিয়ে যায়। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, খুব গরম পানি ব্যবহার করা আর ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে আসা এই শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দেয়। আঙুলের গিঁট আর নখের চারপাশের ত্বক সবার আগে শুকায়, কারণ এই জায়গাগুলোতে ত্বক পাতলা আর বারবার নড়াচড়া হয়। ঠান্ডা বাতাসে খালি হাতে বাইরে গেলে হাত আরও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই শীতে হাতের যত্ন মানে আসলে দুটি কাজ: হাতের আর্দ্রতা ধরে রাখা আর ঠান্ডা ও কড়া জিনিস থেকে হাত বাঁচানো।

শীতে হাতের যত্নের সহজ নিয়ম
- হাত ধোয়ার সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি হাতের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে হাত আলতো করে মুছে নিন, জোরে ঘষে মুছবেন না।
- হাত ধোয়ার পরপরই, হাত সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম লাগান। ভেজা ভাব থাকতে লাগালে আর্দ্রতা হাতে আটকে থাকে আর ক্রিম ভালোভাবে বসে।
- দিনে একবার লাগিয়ে থেমে যাবেন না। প্রতিবার হাত ধোয়ার পর, বাইরে যাওয়ার আগে আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে ক্রিম লাগান। শীতে হাত বারবার ধুতে হয়, তাই ক্রিমও বারবার লাগাতে হয়।
- রাতে ঘুমানোর আগে একটু ঘন ক্রিম লাগান। হাত খুব শুষ্ক হলে ক্রিম লাগিয়ে সুতির গ্লাভস পরে ঘুমাতে পারেন, এতে সারা রাত আর্দ্রতা ধরে থাকে।
- বাইরে গেলে গ্লাভস পরুন, যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি হাতে না লাগে। বাসন ধোয়া বা ঘর পরিষ্কারের সময় রাবার গ্লাভস পরুন, যাতে ডিটারজেন্ট হাতে না লাগে।
- নখ আর নখের চারপাশের যত্ন নিন। ক্রিম লাগানোর সময় নখের গোড়াতেও লাগান। নখের চারপাশের শুকনো চামড়া টেনে তুলবেন না, এতে জায়গাটা আরও ফেটে যেতে পারে।
- হাতের জন্য আলাদা কড়া কিছু ব্যবহার করবেন না। মুখের কড়া স্ক্রাব বা শক্ত ক্লিনজার হাতে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। শীতে হাতের ত্বক এমনিতেই সংবেদনশীল থাকে।
শীতে হাতের যত্নে যেসব প্রোডাক্ট কাজে লাগতে পারে
বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিতে প্রোডাক্ট পেজে দেখুন।
| প্রোডাক্ট | ব্যবহার বিধি | অর্ডার করুন |
|---|---|---|
| হাতের ময়েশ্চারাইজারের জন্য ক্রিম MOOYAM Moisturizing Cream 250g – Deep Hydration & Barrier Care | হাত ধোয়ার পর অল্প করে হাতে লাগান | অর্ডার করুন |
| শুষ্ক ও সংবেদনশীল হাতের ক্রিম Physiogel Daily Moisture Therapy Cream 75g Barrier Care | হাত খুব শুষ্ক লাগলে অল্প করে লাগান, দিনে কয়েকবার ব্যবহার করা যায় | অর্ডার করুন |
| হাত ও শরীরের লোশন Kormesic Glowing Hydrating Body Lotion for Soft Skin | গোসলের পর বা হাত ধোয়ার পর হাতে লাগান | অর্ডার করুন |
| নখের যত্নের প্রোডাক্ট Hyaluronic Acid Nail Hardener for Strong Healthy Nails | নখের ওপর নির্দেশনা অনুযায়ী লাগান | অর্ডার করুন |
শীতের আরও যত্নের লেখা পড়তে চাইলে ঋতুভিত্তিক যত্ন ক্যাটাগরি দেখুন। হাতের পাশাপাশি পুরো ত্বকের যত্ন জানতে শীতে ত্বকের যত্ন আর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের নিয়ম লেখা দুটি পড়তে পারেন।
শীতে হাতের যত্নে যেসব ভুল হয়
- হাত ধুয়ে ক্রিম না লাগানো। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল, কারণ ধোয়ার পর হাত সবচেয়ে বেশি শুকায়।
- খুব গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া। গরম পানি আরাম দিলেও হাতের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়।
- ফাটা চামড়া টেনে তোলা। এতে ফাটা জায়গা বড় হয় আর ব্যথা বাড়ে।
- শুধু সকালে একবার ক্রিম লাগিয়ে সারা দিন পার করা। শীতে হাত বারবার ধোয়া হয়, তাই ক্রিমও বারবার লাগাতে হয়।
- ডিটারজেন্টের কাজ খালি হাতে করা। ডিটারজেন্ট হাতের ত্বককে খুব দ্রুত শুষ্ক করে দেয়।
সারসংক্ষেপ
শীতে হাত ভালো রাখতে বড় কোনো আয়োজনের দরকার নেই। কুসুম গরম পানিতে হাত ধোয়া, ধোয়ার পরপরই ক্রিম লাগানো, বাইরে আর ঘরের কাজে গ্লাভস পরা আর রাতে ঘন ক্রিম লাগানো, এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলেই হাত নরম থাকে আর ফাটা কমে। হাত খুব শুষ্ক লাগলে ক্রিমের পরিমাণ আর লাগানোর সংখ্যা বাড়িয়ে দিন, কিন্তু কড়া কিছু ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: হাতে ক্রিম দিনে কতবার লাগাবেন?
উত্তর: প্রতিবার হাত ধোয়ার পর আর ঘুমানোর আগে লাগান। শীতে সাধারণত দিনে কয়েকবার লাগাতে হয়।
প্রশ্ন: হাত ফেটে গেলে কী করবেন?
উত্তর: ঘন ক্রিম নিয়মিত লাগান, ফাটা চামড়া টেনে তুলবেন না আর ডিটারজেন্ট থেকে হাত বাঁচান। ফাটা জায়গায় ব্যথা, রক্ত বা অনেক দিন ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন: শীতে হাতের জন্য লোশন না ক্রিম ভালো?
উত্তর: হাত খুব শুষ্ক হলে ক্রিম সাধারণত ভালো কাজ করে, কারণ ক্রিম ঘন আর আর্দ্রতা বেশিক্ষণ ধরে রাখে। হাত কম শুষ্ক হলে লোশনও চলতে পারে।

