শিশুর শীতে ত্বকের যত্ন হলো কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করানো, গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগানো, আর বাইরে বের হলে ঠান্ডা বাতাস থেকে গাল আর কান ঢেকে রাখা। শীতে বাতাস শুষ্ক থাকে, তাই শিশুর নরম ত্বক থেকে আর্দ্রতা তাড়াতাড়ি চলে যায়, আর গাল শুকিয়ে লাল হতে পারে।
শিশুর ত্বক বড়দের ত্বকের চেয়ে অনেক পাতলা, তাই শীতে তার যত্ন একটু আলাদা করে নিতে হয়। খুব গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল করালে, কড়া সাবান ব্যবহার করলে বা গোসলের পর ক্রিম লাগাতে দেরি করলে ত্বক আরো শুকিয়ে যায়। আবার খুব বেশি কাপড় পরিয়ে ঘামিয়ে ফেললেও ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে। এই লেখায় শীতে শিশুর ত্বক ভালো রাখার সহজ রুটিন ধাপে ধাপে দেওয়া আছে, যাতে গাল শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা আর চামড়া খসখসে হওয়া শুরুতেই আটকানো যায়।
যা লাগবে
আপনার যা লাগবে তা হলো একটি মৃদু সুগন্ধি ছাড়া বেবি ক্লিনজার বা সাবান, পরিষ্কার নরম তোয়ালে, একটি বেবি ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, নরম সুতির জামা, একটি নরম টুপি আর কান ঢাকা যায় এমন একটি মাফলার বা হুড। নতুন কোনো ক্রিম প্রথমবার লাগানোর আগে শিশুর হাতের ভেতরে ছোট জায়গায় লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন।
ধাপে ধাপে শিশুর শীতে ত্বকের যত্ন
১. প্রতিদিন শিশুর ত্বক একবার দেখে নিন। গাল, ঠোঁট, হাত, পা আর ভাঁজের জায়গায় শুকনো ভাব, লালচে ভাব বা ফাটল আছে কি না, তা দেখুন। শুকনো ভাব শুরুতেই ধরা পড়লে যত্ন নেওয়া সহজ হয়।
২. কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করান। খুব গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল করাবেন না, এতে ত্বকের স্বাভাবিক তেল চলে যায় আর ত্বক আরো শুকিয়ে যায়। মৃদু সুগন্ধি ছাড়া ক্লিনজার দিয়ে আলতো করে ধুয়ে নিন, তারপর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে পানি মুছে নিন, ঘষে মুছবেন না।
৩. গোসলের পরপরই, ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগান। ত্বক পুরো শুকিয়ে যাওয়ার পর ক্রিম লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়। মুখ, হাত, পা আর শরীরে অল্প করে ক্রিম লাগান, শুকনো জায়গায় যেমন গাল, কনুই আর হাঁটুতে একটু বেশি করে লাগাতে পারেন। চোখে ক্রিম লাগাবেন না।
৪. বাইরে বের হলে গাল আর কান ঢেকে রাখুন। ঠান্ডা বাতাস সরাসরি গালে লাগলে গাল শুকিয়ে লাল হয়ে যায়। নরম টুপি আর হুড দিয়ে কান ঢেকে দিন, আর মুখের নিচের অংশ হালকা নরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন। তবে শিশুর নাক আর মুখ পুরো ঢেকে শ্বাস আটকাবেন না।
৫. নরম সুতির জামা ভেতরে পরান, তার ওপর গরম জামা পরান। সরাসরি ত্বকের সাথে খসখসে উলের জামা পরালে চুলকানি হতে পারে, তাই ভেতরে নরম সুতির জামা পরানো ভালো। খুব বেশি কাপড় পরিয়ে ঘামিয়ে ফেলবেন না, ঘাম শুকিয়ে গেলে ত্বক আরো শুষ্ক লাগতে পারে। ভেজা জামা বুঝতে পারলেই বদলে দিন।
৬. ঠোঁট আর নাকের চারপাশে আলাদা করে খেয়াল রাখুন। শীতে শিশুর ঠোঁট সহজে শুকিয়ে ফাটে। ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজাবেন না, এতে ঠোঁট আরো শুকিয়ে যায়। নাক দিয়ে পানি পড়লে নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিন, জোরে ঘষবেন না।
৭. ডায়াপার এলাকাও শীতে শুকনো রাখুন। শীতে কাপড় বেশি থাকে বলে ভেজা ডায়াপার অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে। ডায়াপার সময়মতো বদলান, জায়গাটা পরিষ্কার করে ভালো করে শুকিয়ে নিন। ডায়াপার এলাকার যত্নের পুরো নিয়ম জানতে চাইলে শিশুর ন্যাপি র্যাশের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন।
৮. ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হলে খেয়াল রাখুন। খুব শুষ্ক ঘরে শিশুর ত্বক আরো শুকিয়ে যেতে পারে। ঘরে হালকা বাতাস চলাচল রাখুন, আর শিশুকে নিয়মিত পানি বা মায়ের দুধ খাওয়ান, যাতে শরীরে পানির ঘাটতি না হয়। ত্বকে লালচে ভাব বাড়তে থাকলে, ছড়িয়ে গেলে বা কয়েকদিনে না কমলে নিজে নতুন প্রোডাক্ট পরীক্ষা না করে চিকিৎসক দেখান।

শিশুর শীতে ত্বকের যত্নের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন
কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিন, কারণ দাম আর স্টক সময়ের সাথে বদলাতে পারে।
| প্রোডাক্ট | ব্যবহার বিধি | অর্ডার করুন |
|---|---|---|
| শিশুর শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার Dermadew Baby Cream 80gm | গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতে মুখ আর শরীরে অল্প করে লাগান। গাল, কনুই আর হাঁটুর মতো শুকনো জায়গায় একটু বেশি করে লাগাতে পারেন। চোখে লাগাবেন না, প্রথমে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। | অর্ডার করুন |
মা ও শিশুর আরো পণ্য দেখতে চাইলে Well Care Shop এর Mom & Baby Care ক্যাটাগরি দেখতে পারেন।
সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
সবচেয়ে বড় ভুল হলো খুব গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল করানো, এতে ত্বক আরো শুকিয়ে যায়। গোসলের পর ক্রিম লাগাতে দেরি করা, কড়া সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করা আর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে মোছাও ভুল। বড়দের ক্রিম শিশুর ত্বকে লাগানো ঠিক নয়, কারণ বড়দের ক্রিমে এমন উপাদান থাকতে পারে যা শিশুর নরম ত্বকে মানায় না। খুব বেশি কাপড় পরিয়ে ঘামিয়ে ফেলা, ভেজা জামা বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া আর ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজানোও এড়িয়ে চলুন। নতুন ক্রিম পরীক্ষা না করে পুরো শরীরে লাগাবেন না।
সারসংক্ষেপ
শিশুর শীতে ত্বকের যত্ন সহজ: কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করান, গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগান, বাইরে গাল আর কান ঢেকে রাখুন, ভেতরে নরম সুতির জামা পরান আর ভেজা জামা সাথে সাথে বদলে দিন। ঠোঁট জিভ দিয়ে ভেজাবেন না আর বড়দের ক্রিম শিশুর ত্বকে লাগাবেন না। র্যাশ কয়েকদিনে না কমলে, ছড়িয়ে গেলে, ফোস্কা পড়লে, পুঁজ বা রক্ত দেখা গেলে বা শিশুর জ্বর থাকলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখান। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এই লেখায় কোনো স্থায়ী দামের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, আর কোনো ক্রিম শিশুর ত্বকের সব সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে দেবে, এমন দাবি করা হয়নি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: শীতে শিশুকে দিনে কতবার ক্রিম লাগাব?
উত্তর: গোসলের পর একবার লাগানোই মূল নিয়ম। গাল বা হাত খুব শুকনো লাগলে দিনে আরো একবার অল্প করে লাগাতে পারেন। ত্বক পরিষ্কার আর সামান্য ভেজা থাকলে ক্রিম ভালো কাজ করে।
প্রশ্ন: শিশুর গালে বড়দের ময়েশ্চারাইজার লাগানো যাবে কি?
উত্তর: না, বড়দের ক্রিম শিশুর ত্বকে লাগাবেন না। শিশুর ত্বক অনেক পাতলা আর সংবেদনশীল, তাই শিশুর জন্য তৈরি মৃদু ক্রিম ব্যবহার করুন।
প্রশ্ন: শীতে শিশুর গোসল কতক্ষণ করাব?
উত্তর: অল্প সময়, কুসুম গরম পানিতে গোসল করান। খুব গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল করালে ত্বক শুকিয়ে যায়। গোসলের পর সাথে সাথে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে ক্রিম লাগান।
প্রশ্ন: শিশুর ঠোঁট ফাটলে কী করব?
উত্তর: ঠোঁট জিভ দিয়ে ভেজাবেন না। শিশুর জন্য উপযুক্ত মৃদু বাম বা ক্রিম ঠোঁটের চারপাশে অল্প করে লাগাতে পারেন, আর ঠোঁট বারবার ঘষবেন না। ফাটল গভীর হলে বা রক্ত বের হলে চিকিৎসক দেখান।
প্রশ্ন: শিশুর ত্বকের র্যাশ কখন ডাক্তার দেখাব?
উত্তর: র্যাশ কয়েকদিনে না কমলে, ছড়িয়ে গেলে, ফোস্কা পড়লে, পুঁজ বা রক্ত দেখা গেলে বা শিশুর জ্বর থাকলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখান।

