ব্রণ হলে মুখে কী লাগাবেন না, এটা জানা ব্রণ কমানোর চেষ্টা করার চেয়ে কোনো অংশে কম জরুরি নয়। ব্রণ উঠলে মুখে কড়া স্ক্রাব, ভারী তেল, কড়া সাবান আর একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট লাগাবেন না, কারণ এতে ত্বকে জ্বালা বাড়তে পারে আর ব্রণ আরো খারাপ হতে পারে।
ব্রণ উঠলেই মনে হয়, এখনই কিছু একটা লাগিয়ে দিলে ব্রণ চলে যাবে। এই তাড়াহুড়ো থেকেই অনেকেই একদিনে তিন চারটা নতুন জিনিস মুখে লাগিয়ে ফেলেন, জোরে ঘষে পরিষ্কার করেন, বা ঘরোয়া কোনো কড়া মিশ্রণ লাগিয়ে দেন। ত্বক তখন শান্ত হওয়ার বদলে আরো লাল হয়ে যায়, চুলকায়, আর ব্রণের জায়গায় দাগ বসার ঝুঁকি বাড়ে। এই লেখায় ব্রণ হলে মুখে কোন কোন জিনিস লাগাবেন না, আর তার বদলে কী করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
ব্রণ হলে যা লাগবে
আপনার যা লাগবে তা হলো একটি মৃদু ফেসওয়াশ, পরিষ্কার নরম তোয়ালে, একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার আর দিনের বেলা সানস্ক্রিন। নতুন কিছু লাগাতে চাইলে প্রথমে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়ার নিয়ম জানতে সংবেদনশীল ত্বকে প্যাচ টেস্ট করার নিয়ম লেখাটি পড়তে পারেন। কড়া স্ক্রাব, কড়া সাবান, ভারী তেল বা একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট, এগুলোর কোনোটাই এই যত্নের জন্য লাগবে না।
ব্রণ হলে মুখে যা লাগাবেন না, ধাপে ধাপে
১. কড়া স্ক্রাব লাগাবেন না। দানা দেওয়া স্ক্রাব দিয়ে জোরে ঘষলে ব্রণের জায়গায় চামড়া ছিলে যেতে পারে, লালচে ভাব বাড়তে পারে আর জীবাণু চারপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। তার বদলে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে নিন। মুখ ধোয়ার পুরো নিয়ম জানতে ব্রণপ্রবণ ত্বকে মুখ ধোয়ার নিয়ম লেখাটি পড়তে পারেন।
২. কড়া সাবান বা বেশি ক্ষারযুক্ত পরিষ্কারক লাগাবেন না। মুখ ধোয়ার পর মুখ টানটান লাগলে, চামড়া ফেটে যাওয়ার মতো লাগলে বুঝবেন সেটা আপনার ত্বকের জন্য কড়া হয়ে গেছে। কড়া করে ধুলে ত্বক শুষ্ক হয়, আর তখন তেল আরো বেশি বের হতে পারে। মৃদু, হালকা ফেসওয়াশই যথেষ্ট।
৩. ভারী তেল বা খুব ঘন ক্রিম ব্রণের ওপর লাগাবেন না। ভারী তেল লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে ব্রণ আরো বাড়তে পারে। এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি মুখে লাগানোও ঠিক নয়, এতে জ্বালা বা অ্যালার্জি হতে পারে। তার বদলে হালকা, ত্বকে সহজে মিশে যায় এমন ময়েশ্চারাইজার অল্প করে লাগান।
৪. একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট লাগাবেন না। নতুন ফেসওয়াশ, নতুন সিরাম, নতুন ক্রিম, সব একদিনে শুরু করলে কোনটায় সমস্যা হলো তা বোঝা যায় না। একটা নতুন জিনিস শুরু করে কয়েকদিন দেখুন, ত্বকে কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না, তারপর আরেকটা যোগ করুন।
৫. কড়া ঘরোয়া মিশ্রণ লাগাবেন না। লেবুর রস, দাঁত মাজার পেস্ট, কড়া মশলার পেস্ট বা অচেনা কোনো মিশ্রণ ব্রণের ওপর লাগালে চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো জ্বালা হতে পারে আর দাগ বসতে পারে। ঘরোয়া মানেই ত্বকের জন্য নিরাপদ, এটা ভাবা ঠিক নয়।
৬. ভারী মেকআপ দিয়ে ব্রণ চেপে ঢাকবেন না। ভারী ফাউন্ডেশন বা ঘন কনসিলার অনেকক্ষণ লাগিয়ে রাখলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মেকআপ লাগাতেই চাইলে হালকা করে, পরিষ্কার হাতে লাগান, আর দিন শেষে আলতো করে মুখ ধুয়ে পুরো মেকআপ তুলে ফেলুন। মেকআপ লাগিয়ে ঘুমাতে যাবেন না।
৭. ব্রণ থাকা অবস্থায় নতুন কোনো কড়া ট্রিটমেন্ট একা একা শুরু করবেন না। কড়া অ্যাসিড, কড়া পিলিং বা একসাথে দুই তিনটা অ্যাকটিভ উপাদান নিজে থেকে লাগালে ত্বক আরো সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। ব্রণ খুব বেশি, ব্যথা করে, ভেতরে শক্ত গোটা মনে হয়, বা অনেকদিন ধরে কমছে না, এমন হলে নিজে পরীক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ব্রণ হলে মুখে কী লাগাবেন না গাইডের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন
কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিন, কারণ দাম আর স্টক সময়ের সাথে বদলাতে পারে।
| প্রোডাক্ট | ব্যবহার বিধি | অর্ডার করুন |
|---|---|---|
| মুখ আলতো করে ধোয়ার জন্য মৃদু ফোমিং ফেসওয়াশ The Face Shop Rice Water Bright Foaming Cleanser 150ml | সকাল আর রাতে অল্প পরিমাণে ফেনা করে আলতো করে লাগান, তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। প্রথমে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। | অর্ডার করুন |
| দিনের বেলা রোদ থেকে বাঁচতে হালকা সানস্ক্রিন Fairy Skin Premium Tinted Sunscreen | মুখ ধোয়া আর ময়েশ্চারাইজারের পর দিনের বেলা লাগান। বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে বা অনেক ঘাম হলে নিয়ম মেনে আবার লাগান। | অর্ডার করুন |
মুখ ধোয়ার আরো অপশন দেখতে Well Care Shop এর ফেসওয়াশ ও ক্লিনজার ক্যাটাগরি দেখতে পারেন।
সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
সবচেয়ে বড় ভুল হলো ব্রণ তাড়াতাড়ি কমাতে গিয়ে একদিনে অনেক কিছু লাগিয়ে ফেলা। এতে ত্বক আরো খারাপ হয়, আর কোনটায় সমস্যা হলো তা বোঝা যায় না। ব্রণ খোঁচানো, চাপ দেওয়া, বারবার মুখে হাত দেওয়া আর আয়নার সামনে বারবার ব্রণ দেখাও ভুল। মুখ ধোয়ার সময় জোরে ঘষা, খুব গরম পানি দিয়ে ধোয়া আর মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার না লাগানোও ঠিক নয়। ব্রণের দাগ নিয়ে আলাদা যত্ন জানতে চাইলে ব্রণের দাগ হালকা করার রুটিন লেখাটি পড়তে পারেন।
সারসংক্ষেপ
ব্রণ হলে মুখে কী লাগাবেন না, সেটা মনে রাখা সহজ: কড়া স্ক্রাব লাগাবেন না, কড়া সাবান দিয়ে ধুবেন না, ভারী তেল বা ঘন ক্রিম ব্রণের ওপর লাগাবেন না, একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট শুরু করবেন না, কড়া ঘরোয়া মিশ্রণ লাগাবেন না, ভারী মেকআপ দিয়ে ব্রণ চেপে ঢাকবেন না, আর কড়া ট্রিটমেন্ট নিজে থেকে শুরু করবেন না। তার বদলে দিনে দুইবার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে নিন, হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান আর দিনের বেলা সানস্ক্রিন লাগান। ব্রণ খুব ব্যথা করলে, দ্রুত ছড়িয়ে গেলে, ভেতরে শক্ত গোটা মনে হলে, বা অনেকদিন ধরে না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এই লেখায় কোনো স্থায়ী দামের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, আর কোনো প্রোডাক্ট ব্রণ সারিয়ে দেবে বা ত্বকের রং স্থায়ীভাবে বদলে দেবে, এমন দাবি করা হয়নি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ব্রণ হলে কি মুখে তেল লাগানো যাবে?
উত্তর: ভারী তেল ব্রণের ওপর লাগানো ঠিক নয়, এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বাড়তে পারে। হালকা ময়েশ্চারাইজার অল্প করে লাগানোই নিরাপদ।
প্রশ্ন: ব্রণ থাকলে স্ক্রাব ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তর: কড়া স্ক্রাব দিয়ে জোরে ঘষা ঠিক নয়। ব্রণের জায়গায় জ্বালা বাড়তে পারে আর দাগের ঝুঁকি বাড়ে, তাই মুখ ধোয়ার কাজটা আলতো রাখুন।
প্রশ্ন: নতুন প্রোডাক্ট শুরু করার আগে কী করব?
উত্তর: প্রথমে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। কোনো অস্বস্তি না হলে তারপর নিয়মিত ব্যবহার করুন, আর একসাথে অনেক নতুন প্রোডাক্ট শুরু করবেন না।
প্রশ্ন: কখন ডাক্তার দেখাব?
উত্তর: ব্রণ খুব ব্যথা করলে, দ্রুত ছড়িয়ে গেলে, ভেতরে শক্ত গোটা মনে হলে, সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেলে, বা অনেকদিন ধরে না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

