শিশুর গোসলের নিয়ম হলো নাভি না পড়া পর্যন্ত শুধু ভেজা নরম কাপড়ে গা মুছে দেওয়া, নাভি পড়ার পর কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করানো, আর গোসলের পরপরই ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগানো। নবজাতককে সপ্তাহে দুই বা তিনবার গোসল করানোই যথেষ্ট, প্রতিদিন গোসল করানোর দরকার নেই।
নতুন মা বাবার কাছে শিশুর প্রথম গোসল একটু ভয়ের মনে হতে পারে, কারণ শিশু হাত থেকে পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে আর কোনটা আগে করবেন, সেটা বুঝে ওঠা যায় না। আসলে গোসলের নিয়ম খুব সহজ, যদি আগে থেকে সব জিনিস গুছিয়ে রাখেন আর ধাপগুলো একটা একটা করে করেন। এই লেখায় নবজাতক থেকে একটু বড় শিশু পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদে গোসল করানোর পুরো নিয়ম ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
যা লাগবে
আপনার যা লাগবে তা হলো একটি ছোট টব বা গামলা, কুসুম গরম পানি, একটি মৃদু বেবি ওয়াশ বা বেবি সাবান, নরম স্পঞ্জ বা পরিষ্কার নরম কাপড়, দুটি নরম তোয়ালে, পরিষ্কার জামা, একটি ডায়াপার আর একটি বেবি ক্রিম। গোসলের আগে সব জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন, যাতে গোসলের সময় শিশুকে একা রেখে কিছু আনতে যেতে না হয়।
ধাপে ধাপে শিশুর গোসলের নিয়ম
১. প্রথমে সব জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে নিন। টব, তোয়ালে, জামা, ডায়াপার আর ক্রিম এক জায়গায় রাখুন। গোসলের সময় এক মুহূর্তের জন্যও শিশুকে একা রেখে যাবেন না, তাই কিছু ভুলে গেলে গোসল শুরুর আগেই এনে রাখুন।
২. পানির তাপমাত্রা হাত দিয়ে পরীক্ষা করুন। পানি কুসুম গরম হওয়া চাই, হাত ডোবালে আরাম লাগবে এমন গরম। খুব গরম পানিতে শিশুর নরম ত্বক পুড়ে যেতে পারে, আবার ঠান্ডা পানিতে শিশুর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। টবে পানি বেশি নেবেন না, শিশুর শরীরের নিচের অংশ ডোবে এমন পরিমাণই যথেষ্ট।
৩. নাভি না পড়া পর্যন্ত টবে গোসল করাবেন না। জন্মের পর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নাভি পড়ে যায়, তার আগে নাভি ভিজতে দেবেন না। এই সময় শুধু কুসুম গরম পানিতে ভেজানো নরম কাপড় দিয়ে শিশুর গা মুছে দিন, মুখ, গলা, হাত, পা আর ভাঁজের জায়গা আলতো করে পরিষ্কার করুন। নাভি পড়ে গিয়ে জায়গাটা শুকিয়ে গেলে তবেই টবে গোসল করান।
৪. মুখ আর মাথা আগে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুর মুখ মুছে নিন, চোখের ভেতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে মুছে নিন। তারপর মাথায় অল্প পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন, মাথায় সাবান লাগালে চোখে যাতে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। মাথা ভেজা থাকলে শিশুর ঠান্ডা লাগে, তাই মাথা ধোয়ার পর সাথে সাথে আলতো করে মুছে নিন।
৫. শরীর ধীরে ধীরে ধুয়ে নিন। এক হাত দিয়ে শিশুর মাথা আর ঘাড় ধরে রাখুন, অন্য হাত দিয়ে শরীর ধুয়ে নিন। গলা, বগল, হাতের আঙুলের ফাঁক, পায়ের আঙুলের ফাঁক আর কুঁচকির ভাঁজে ময়লা জমে থাকে, সেসব জায়গা আলতো করে পরিষ্কার করুন। মৃদু বেবি ওয়াশ হাতে অল্প করে নিয়ে লাগান, সরাসরি শিশুর গায়ে সাবান ঘষবেন না।
৬. ডায়াপার এলাকা সবশেষে পরিষ্কার করুন। ডায়াপার এলাকায় ময়লা থাকে, তাই এটা সবার শেষে ধুয়ে নিন। সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছে নিন, এতে ময়লা সামনের দিকে যায় না। জায়গাটা পরিষ্কার করে ভালো করে শুকিয়ে নিন। ডায়াপার এলাকার যত্নের পুরো নিয়ম জানতে চাইলে শিশুর ন্যাপি র্যাশের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন।
৭. ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি গোসল করাবেন না। বেশিক্ষণ পানিতে থাকলে শিশুর ত্বক শুকিয়ে যায় আর শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। শিশু পানি খুব পছন্দ করলেও গোসলের সময় অল্প রাখুন, গোসলের পর শরীর গরম রাখা জরুরি।
৮. গোসলের পর সাথে সাথে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে মুছে নিন। তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে মুছবেন না, এতে নরম ত্বকে লালচে ভাব হতে পারে। মাথার চুল, কানের পেছন আর ভাঁজের জায়গা ভালো করে শুকিয়ে নিন, ভেজা ভাব থাকলে ঠান্ডা লাগতে পারে।
৯. ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগান। ত্বক পুরো শুকিয়ে যাওয়ার পর ক্রিম লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়। মুখ, হাত, পা আর শরীরে অল্প করে ক্রিম লাগান, চোখে ক্রিম লাগাবেন না। তারপর সাথে সাথে জামা আর ডায়াপার পরিয়ে দিন, যাতে শিশুর শরীর গরম থাকে।
১০. শীতে গোসলের সময় ঘর গরম রাখুন। শীতে দরজা জানালা বন্ধ করে ঘর গরম করে গোসল করান, ফ্যান বন্ধ রাখুন। গোসলের পর সাথে সাথে গরম জামা পরিয়ে দিন। শীতে শিশুর ত্বকের আলাদা যত্নের নিয়ম জানতে চাইলে শিশুর শীতে ত্বকের যত্ন লেখাটি পড়তে পারেন।

শিশুর গোসলের পর ব্যবহারের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন
কেনার আগে প্রোডাক্ট পেজে বর্তমান দাম আর স্টক দেখে নিন, কারণ দাম আর স্টক সময়ের সাথে বদলাতে পারে।
| প্রোডাক্ট | ব্যবহার বিধি | অর্ডার করুন |
|---|---|---|
| শিশুর গোসলের পর ত্বক নরম রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার Dermadew Baby Cream 80gm | গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতে মুখ আর শরীরে অল্প করে লাগান। গাল, কনুই আর হাঁটুর মতো শুকনো জায়গায় একটু বেশি করে লাগাতে পারেন। চোখে লাগাবেন না, প্রথমে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। | অর্ডার করুন |
| ডায়াপার এলাকার সুরক্ষার জন্য Bepanthen Nappy Care Ointment (UK) 100g | ডায়াপার এলাকা পরিষ্কার করে ভালো করে শুকিয়ে নিন, তারপর প্রতিবার ডায়াপার বদলানোর সময় পাতলা করে পুরো এলাকায় লাগান। | অর্ডার করুন |
মা ও শিশুর আরো পণ্য দেখতে চাইলে Well Care Shop এর Mom & Baby Care ক্যাটাগরি দেখতে পারেন।
সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
সবচেয়ে বড় ভুল হলো গোসলের সময় শিশুকে একা রেখে যাওয়া, এক মুহূর্তের জন্যও এটা করবেন না। খুব গরম পানিতে গোসল করানো, বেশিক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা আর নাভি না পড়তেই টবে নামানোও ভুল। প্রতিদিন কড়া সাবান ব্যবহার করলে শিশুর ত্বক শুকিয়ে যায়, তাই সপ্তাহে দুইদিনের বেশি সাবান ব্যবহার করবেন না। বড়দের সাবান শিশুর ত্বকে লাগানো ঠিক নয়, কারণ বড়দের সাবানে এমন উপাদান থাকতে পারে যা শিশুর নরম ত্বকে মানায় না। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে মোছা, কানে পানি ঢোকানো আর গোসলের পর ক্রিম লাগাতে দেরি করাও এড়িয়ে চলুন।
সারসংক্ষেপ
শিশুর গোসলের নিয়ম সহজ: নাভি না পড়া পর্যন্ত শুধু ভেজা কাপড়ে গা মুছে দিন, নাভি পড়ার পর কুসুম গরম পানিতে ৫ থেকে ১০ মিনিট গোসল করান, সপ্তাহে দুই বা তিনবার গোসল করানোই যথেষ্ট, আর গোসলের পরপরই ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই বেবি ক্রিম লাগিয়ে জামা পরিয়ে দিন। গোসলের সময় শিশুকে কখনো একা রাখবেন না, প্রতিদিন কড়া সাবান ব্যবহার করবেন না আর বড়দের সাবান শিশুর গায়ে লাগাবেন না। শিশুর ত্বকে র্যাশ দেখা গেলে, র্যাশ ছড়িয়ে গেলে, ফোস্কা পড়লে, পুঁজ বা রক্ত দেখা গেলে বা শিশুর জ্বর থাকলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখান। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। এই লেখায় কোনো স্থায়ী দামের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, আর কোনো ক্রিম শিশুর ত্বকের সব সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে দেবে, এমন দাবি করা হয়নি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: নবজাতককে প্রথম গোসল কখন করাব?
উত্তর: জন্মের পর অন্তত ৬ ঘণ্টা, ভালো হয় ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর প্রথম গোসল করান। তবে নাভি না পড়া পর্যন্ত টবে গোসল করাবেন না, ততদিন শুধু ভেজা নরম কাপড়ে গা মুছে দিন।
প্রশ্ন: শিশুকে সপ্তাহে কতবার গোসল করাব?
উত্তর: নবজাতককে সপ্তাহে দুই বা তিনবার গোসল করানোই যথেষ্ট। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতিদিন গোসল করাতে পারেন, যদি শিশুর ঠান্ডা কাশি না থাকে।
প্রশ্ন: গোসলের পানি কতটা গরম হবে?
উত্তর: পানি কুসুম গরম হবে, হাত ডোবালে আরাম লাগবে এমন। খুব গরম পানি শিশুর ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে, তাই গোসলের আগে হাত দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন।
প্রশ্ন: শিশুর গোসলে সাবান প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তর: না, সপ্তাহে দুইদিন সাবান ব্যবহার করলেই হয়। বাকি দিনগুলোতে শুধু কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন, এতে ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট হয় না।
প্রশ্ন: শিশুর ত্বকে র্যাশ দেখা গেলে কখন ডাক্তার দেখাব?
উত্তর: র্যাশ কয়েকদিনে না কমলে, ছড়িয়ে গেলে, ফোস্কা পড়লে, পুঁজ বা রক্ত দেখা গেলে বা শিশুর জ্বর থাকলে দেরি না করে চিকিৎসক দেখান।

