শীতে ত্বকের যত্ন মানে শুষ্ক বাতাস থেকে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। মুখ ধোয়ার পর সামান্য ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো, কুসুম গরম পানিতে গোসল করা আর দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, এই তিনটি অভ্যাসই শীতের মূল যত্ন।
শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ত্বক থেকে পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই ত্বকে টান ধরে, খসখসে ভাব আসে আর ঠোঁট ফাটে। এই লেখায় শীতের সকাল আর রাতের সহজ রুটিন, ত্বকের ধরন অনুযায়ী বাছাই আর সাধারণ ভুলগুলো ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
শীতে ত্বকের যত্নে যা যা লাগবে
মৃদু ফেসওয়াশ লাগবে, যাতে মুখ পরিষ্কার হয় কিন্তু ত্বক টানটান না হয়। ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগবে, শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘন ক্রিম আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা জেল ভালো কাজ করে। দিনের বেলা সানস্ক্রিন লাগবে, কারণ শীতেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়। ঠোঁটের জন্য সুগন্ধিহীন লিপ বাম রাখা ভালো। হাত আর পায়ের জন্য আলাদা ক্রিম রাখলে শীতের ফাটা কমে।
শীতে ত্বকের যত্নের ধাপ
১. কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। খুব গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক তেল ধুয়ে নেয়, তাই শীতে গরম পানি এড়িয়ে চলুন।
২. মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষবেন না। ত্বক হালকা করে মুছে নিন, যাতে ত্বক সামান্য ভেজা থাকে।
৩. ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। এই সময় ময়েশ্চারাইজার আর্দ্রতা ভালোভাবে আটকে রাখতে পারে।
৪. দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন লাগান। শীতে ব্যবহারের সানস্ক্রিন বাছাই করার সময় ত্বকের ধরন দেখে নিন, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল ধরনের সানস্ক্রিন আরামদায়ক হয়।
৫. রাতে ঘুমানোর আগে আবার মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে ত্বক বিশ্রাম পায়, তাই রাতের ময়েশ্চারাইজার শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
৬. ঠোঁটে নিয়মিত লিপ বাম লাগান। ঠোঁট ফাটলে জিভ দিয়ে বারবার ভেজাবেন না, এতে ফাটা আরো বাড়ে।
৭. হাত ধোয়ার পর হাতে ক্রিম লাগান। শীতে বারবার হাত ধোয়ার কারণে হাতের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী বাছাই
| ত্বকের ধরন | ময়েশ্চারাইজার | সানস্ক্রিন |
|---|---|---|
| শুষ্ক ত্বক | ঘন ক্রিম | ক্রিম ধরনের সানস্ক্রিন |
| তৈলাক্ত ত্বক | হালকা জেল | জেল বা অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন |
| মিশ্র ত্বক | শুষ্ক জায়গায় ক্রিম, তৈলাক্ত জায়গায় জেল | হালকা সানস্ক্রিন |
| সংবেদনশীল ত্বক | সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার | সুগন্ধিহীন সানস্ক্রিন |
শীতে ব্যবহারের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন
শীতে ব্যবহারের জন্য নিচের প্রোডাক্টগুলো রুটিন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান দাম আর স্টক প্রোডাক্ট পেজে দেখে নিন।
| প্রোডাক্ট | ব্যবহার বিধি | অর্ডার করুন |
|---|---|---|
| শীতে মুখ ধোয়ার জন্য The Face Shop Rice Water Bright Foaming Cleanser | কুসুম গরম পানি দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে নিন | অর্ডার করুন |
| শুষ্ক ত্বকের জন্য DABO All In One Black Snail Repair Cream | ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ঘন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে লাগান | অর্ডার করুন |
| শুষ্ক ত্বকের জন্য The Face Shop Rice & Ceramide Moisturizing Cream | শুষ্ক ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে সকাল ও রাতে লাগান | অর্ডার করুন |
| শীতে ব্যবহারের জন্য Fairy Skin Premium Tinted Sunscreen | দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে লাগান | অর্ডার করুন |
নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার বাছাই করতে পারেন।
শীতে যে ভুলগুলো বেশি হয়
অনেকে শীতে মুখ ধোয়া কমিয়ে দেন, এতে ময়লা জমে ত্বক আরো খারাপ হয়। অনেকে দিনে একবার ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ভাবেন সারাদিনের কাজ শেষ, কিন্তু শীতে ত্বক আবার শুষ্ক হলে সকালে আর রাতে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হয়। গরম পানিতে লম্বা গোসল করা আর কড়া সাবান ব্যবহার করা শীতের দুটি বড় ভুল। সানস্ক্রিন শুধু গরমের জন্য ভেবে শীতে বাদ দেওয়াও ভুল, কারণ শীতেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে। নতুন প্রোডাক্ট মুখে সরাসরি লাগানোর আগে প্যাচ টেস্ট না করলে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
শীতে হাত, পা আর শরীরের যত্ন
শীতে শুধু মুখের ত্বক শুষ্ক হয় না, হাত, পা আর শরীরের ত্বকও শুষ্ক হয়। গোসলের পর শরীর সামান্য ভেজা থাকতেই বডি লোশন বা ক্রিম লাগান। হাত ধোয়ার পর হাতে ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না, কারণ শীতে হাত সবচেয়ে বেশি ধোয়া হয়। পা ফাটলে রাতে পায়ে ঘন ক্রিম লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমাতে পারেন। শরীরের ত্বকে চুলকানি হলে জোরে চুলকাবেন না, এতে ত্বক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কড়া সাবান বাদ দিয়ে মৃদু সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করা ভালো।
শীতে পানি কম খাওয়া হয়, কারণ তেষ্টা কম পায়। পানি কম খেলে ত্বক সরাসরি শুষ্ক হয়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই, কিন্তু শরীরের স্বাভাবিক কাজের জন্য নিয়মিত পানি খাওয়া দরকার। ঘরে বাতাস খুব শুষ্ক হলে জানালা খুলে বাতাস চলাচল করতে দিন। খুব গরম ঘরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে ত্বক আরো শুষ্ক হতে পারে। শীতের রুটিনে বড় বদল আনার দরকার নেই, ছোট ছোট অভ্যাস বদলালেই ত্বক ভালো থাকে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন
ত্বকে দীর্ঘদিন চুলকানি, লালচে ভাব, ফাটা থেকে রক্ত বেরোনো বা ফোসকা দেখা দিলে নিজে নতুন প্রোডাক্ট পরীক্ষা করবেন না। শিশুর ত্বকে র্যাশ দীর্ঘদিন থাকলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই লেখা সাধারণ যত্নের গাইড, এটা চিকিৎসার পরামর্শ নয়। কোনো ওষুধ বা মেডিকেটেড ক্রিম ব্যবহারের আগে প্যাকের নির্দেশনা পড়ুন, আর প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সারাংশ
শীতে ত্বকের যত্ন কঠিন নয়, নিয়মিত হওয়াটাই আসল কাজ। কুসুম গরম পানি, মৃদু ফেসওয়াশ, ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার, দিনের বেলা সানস্ক্রিন আর ঠোঁটের যত্ন, এই পাঁচটি অভ্যাস ধরে রাখলে শীতেও ত্বক নরম থাকে। নতুন প্রোডাক্ট শুরু করলে প্যাচ টেস্ট করুন। জ্বালা, লালচে ভাব বা ফাটা দীর্ঘদিন থাকলে নিজে পরীক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন
শীতে ত্বক শুষ্ক হয় কেন? শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, তাই ত্বক থেকে পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়। ঠান্ডা বাতাস আর গরম পানিতে গোসল করলে শুষ্কতা আরো বাড়ে।
মুখ ধোয়ার পর কখন ময়েশ্চারাইজার লাগাব? মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। ত্বক পুরো শুকিয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার আর্দ্রতা ধরে রাখতে কম সাহায্য করে।
শীতে সানস্ক্রিন কি লাগবে? হ্যাঁ, শীতেও সানস্ক্রিন লাগবে। রোদ কম থাকলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়, তাই দিনের বেলা বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন লাগান।
ঠোঁট ফাটলে কী করব? ঠোঁটে নিয়মিত সুগন্ধিহীন লিপ বাম লাগান। ঠোঁট জিভ দিয়ে ভেজাবেন না, আর ফাটা অংশ টেনে তুলবেন না। ফাটা দীর্ঘদিন থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
গরম পানিতে গোসল কি ত্বক শুষ্ক করে? হ্যাঁ, খুব গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক তেল ধুয়ে নেয়। শীতে কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল করা ভালো, আর গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান।

