
শীতে চুলের যত্ন মানে শুষ্ক বাতাস থেকে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখা। সপ্তাহে ২ বার তেল মালিশ, ২ থেকে ৩ বার মৃদু শ্যাম্পু আর প্রতিবার কন্ডিশনার ব্যবহার করাই শীতের মূল যত্ন।
শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। চুল থেকে পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই চুল রুক্ষ হয়, আগা ফাটে আর মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে খুশকি বাড়ে। এই লেখায় শীতের সপ্তাহের সহজ রুটিন, চুলের ধরন অনুযায়ী বাছাই আর সাধারণ ভুলগুলো ধাপে ধাপে দেওয়া আছে।
শীতে চুলের যত্নে যা যা লাগবে
মৃদু শ্যাম্পু লাগবে, যাতে মাথার ত্বক পরিষ্কার হয় কিন্তু চুল বেশি শুষ্ক না হয়। কন্ডিশনার লাগবে, যাতে চুল নরম থাকে আর জট কম ছাড়াতে হয়। হালকা তেল লাগবে, যেমন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল, যা মাথার ত্বকে মালিশ করা যায়। মোটা দাঁতের চিরুনি লাগবে, যাতে ভেজা চুল আঁচড়ানোর সময় চুল কম ছেঁড়ে। নরম তোয়ালে লাগবে, যাতে চুল মোছার সময় ঘষাঘষি কম হয়। শীতের রুটিনে অনেক প্রোডাক্ট লাগে না, এই কয়টি জিনিস দিয়েই কাজ চলে।
শীতে চুলের যত্নের ধাপ
১. শ্যাম্পু করার আগে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন। শুষ্ক চুলে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আগা থেকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে আঁচড়ান।
২. সপ্তাহে ২ বার হালকা গরম তেল মাথার ত্বকে মালিশ করুন। আঙুলের ডগা দিয়ে আস্তে করে মালিশ করুন, নখ দিয়ে ঘষবেন না। তেল ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
৩. কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে নিন। খুব গরম পানি মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল ধুয়ে নেয়, তাই শীতে গরম পানি এড়িয়ে চলুন।
৪. মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে শুধু মাথার ত্বক পরিষ্কার করুন। শ্যাম্পু চুলের আগায় ঘষার দরকার নেই, ধোয়ার সময় যে ফেনা নিচে নামে তাতেই আগা পরিষ্কার হয়।

৫. শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার শুধু চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত লাগান। কন্ডিশনার মাথার ত্বকে লাগাবেন না, এতে ত্বক তেলতেলে হতে পারে। ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৬. চুল ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি শুষে নিন। তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষবেন না, এতে চুল ভাঙে আর আগা ফাটে।
৭. চুল পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই বাইরে বেরোন। শীতে ভেজা চুলে বাইরে গেলে ঠান্ডা বাতাস চুল আরো রুক্ষ করে দেয়।
চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার
চুলের ধরন না দেখে একই শ্যাম্পু সবার জন্য কাজ করে না। নিচের টেবিলে চুলের ধরন অনুযায়ী সহজ বাছাই দেওয়া আছে।
| চুলের ধরন | শ্যাম্পু | কন্ডিশনার আর তেল |
|---|---|---|
| শুষ্ক চুল | মৃদু ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু, সপ্তাহে ২ বার | প্রতিবার কন্ডিশনার, সপ্তাহে ২ বার তেল মালিশ |
| তৈলাক্ত চুল | হালকা শ্যাম্পু, সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার | শুধু আগায় কন্ডিশনার, হালকা তেল অল্প সময় |
| মিশ্র চুল | মৃদু শ্যাম্পু, সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার | শুষ্ক অংশে কন্ডিশনার, তেল শুধু আগায় |
| কোঁকড়ানো চুল | মৃদু শ্যাম্পু, সপ্তাহে ২ বার | প্রতিবার কন্ডিশনার, ভেজা চুলে অল্প তেল বা সিরাম |
শীতে যে ভুলগুলো বেশি হয়
অনেকে শীতে প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন, এতে মাথার ত্বক আরো শুষ্ক হয়। অনেকে শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার বাদ দেন, এতে চুল রুক্ষ থাকে আর জট বেশি হয়। অনেকে ভেজা চুলে চিরুনি দিয়ে জোরে জট ছাড়ান, এতে চুল ছেঁড়ে। অনেকে শীতে হেয়ার ড্রায়ার আর স্ট্রেইটনার বেশি ব্যবহার করেন, এতে চুলের আর্দ্রতা কমে যায়। অনেকে নতুন প্রোডাক্ট একসাথে অনেকগুলো শুরু করেন, এতে কোনটায় সমস্যা হলো তা বোঝা যায় না। নতুন প্রোডাক্ট একটা করে শুরু করুন, আর প্রথমে অল্প করে ব্যবহার করে দেখুন।
শীতে ব্যবহারের জন্য প্রোডাক্ট সাজেশন
চুলের ধরন দেখে চুলের যত্ন প্রোডাক্ট বাছাই করুন। শুষ্ক চুলের জন্য মৃদু শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার একসাথে ব্যবহার করা ভালো কাজ করে। খুশকি বেশি থাকলে মাথার ত্বকের জন্য বানানো শ্যাম্পু বাছাই করুন, আর প্যাকের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করুন। চুলের আগা ফাটা কমাতে নিয়মিত কন্ডিশনার আর মাঝে মাঝে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যায়। প্রতিটি প্রোডাক্টের বর্তমান দাম আর স্টক প্রোডাক্ট পেজে দেখে নিন, কারণ দাম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। কোনো প্রোডাক্ট চুল পড়া পুরো বন্ধ করে দেবে বা চুলের রং বদলে দেবে, এমন দাবি বিশ্বাস করবেন না।
- Ketokem Anti Dandruff Shampoo 110ml
- Kormesic 5% Minoxidil Keratin Hair Growth Conditioner 265g – Hair Loss Care
শীতের সপ্তাহের রুটিন
সপ্তাহের রুটিন এমনভাবে সাজান, যাতে চুল পরিষ্কার থাকে কিন্তু বেশি শুষ্ক না হয়। এই রুটিন শুষ্ক চুলের জন্য বানানো, তৈলাক্ত চুল হলে শ্যাম্পুর দিন একদিন বাড়িয়ে নিন।
- শনি আর বুধবার: তেল মালিশ, তারপর শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার।
- সোমবার: শুধু শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার, তেল মালিশ নয়।
- মঙ্গল আর বৃহস্পতিবার: চুল না ধুয়ে শুধু আঁচড়ে নিন, দরকার হলে আগায় অল্প তেল লাগান।
- শুক্রবার: চুলের অবস্থা দেখে নিন, আগা ফাটা বেশি হলে পরের সপ্তাহে কন্ডিশনার আরো যত্ন করে লাগান।
প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন
শীতে সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করব?
শুষ্ক চুল হলে সপ্তাহে ২ বার, তৈলাক্ত চুল হলে ২ থেকে ৩ বার শ্যাম্পু করা যথেষ্ট। প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
শীতে চুলে তেল মালিশ কতক্ষণ রাখব?
হালকা গরম তেল মাথার ত্বকে মালিশ করে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রাখুন, তারপর মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সারা রাত তেল রেখে দেওয়ার দরকার নেই।
শীতে খুশকি বেশি হলে কী করব?
মাথার ত্বক শুষ্ক না রেখে নিয়মিত মৃদু শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। খুশকি বেশি থাকলে মাথার ত্বকের জন্য বানানো শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, আর প্যাকের নির্দেশনা মেনে চলুন। খুশকি না কমলে বা ত্বকে জ্বালা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতে চুল রুক্ষ হলে কন্ডিশনার ছাড়া চলবে?
না, শীতে কন্ডিশনার বাদ দিলে চুল আরো রুক্ষ হয় আর জট বেশি হয়। প্রতিবার শ্যাম্পুর পর চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান।
শীতে ভেজা চুলে বাইরে গেলে সমস্যা হয়?
হ্যাঁ, শীতে ভেজা চুলে বাইরে গেলে ঠান্ডা বাতাস চুল আরো রুক্ষ করে দেয়। চুল পুরো শুকিয়ে গেলে তবেই বাইরে বেরোন।
শীতে চুলের যত্নের মূল কথা সহজ: কম শ্যাম্পু, নিয়মিত কন্ডিশনার, সপ্তাহে তেল মালিশ আর গরম পানি এড়িয়ে চলা। এই রুটিন ২ থেকে ৩ সপ্তাহ মেনে চললে চুলের রুক্ষতা কমতে শুরু করে। ত্বকের যত্নের জন্য পড়ুন শীতে ত্বকের যত্ন।